ম্যানচেস্টার সিটির কট্টর সমর্থক ও ব্যান্ড ওয়েসিসের প্রধান গায়ক গ্যালাঘার জানিয়েছেন, দল আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগে জর্জরিত হলেও তিনি মাঠে গিয়ে সমর্থন চালিয়ে যাবেন।

সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগের প্রায় সবগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গ্যালাঘার বলেন, তিনি ইতিমধ্যে 'রাস্তায় লোকজনের কটাক্ষের শিকার' হয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মনে সিটির অর্জিত সম্মান এতে বদলাবে না।
রায় চূড়ান্ত হলে সিটি একাধিক কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল (এমনকি তার পরেও) পর্যন্ত জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়া, অথবা অবনমন।
এই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় সিটির সম্মানে কালি লেপে দিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: 'না। আমি সেই মুহূর্তগুলো নিজে উপভোগ করেছি, নিজের চোখে দেখেছি, নিজে অনুভব করেছি।'
'প্রায় ১৫ বছর আগে সই হওয়া একটা স্পনসরশিপ চুক্তির কারণে যদি বলা হয় টানা চারবার লিগ জয়, ইস্তাম্বুলে শিরোপা জয়, আর সবকিছুই অর্থহীন হয়ে গেছে, ক্লাবটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া উচিত, সমর্থকদের উত্তর কোরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো উচিত, তাহলে সেটা নিছক উন্মাদনার কথা।'
এর ফলে সিটি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হতে পারে, এমন প্রশ্নেও তিনি অটল থেকে বলেন: 'আসুক না। এই দল যে তলানিতে নেমেছিল, তা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না।'
'দল উগান্ডায় গিয়ে দর্শকশূন্য মাঠে হাজারটা ম্যাচ খেললেও আমি সেখানে হাজির থাকব। যেসব পুরনো সমর্থক দলের সঙ্গে তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার সময়ও পাশে ছিলেন, তারা সবাই আমার মতোই ভাববেন।'
'আমরা সিটিকে সমর্থন করি আবুধাবির টাকার জন্য নয়, গার্দিওলা, হালান্ড বা আগুয়েরোর জন্যও নয়। আমরা সিটিকে সমর্থন করি, কারণ এটাই আমাদের শিকড়।'
গ্যালাঘার স্বীকার করেন, খবরটা শুনে তিনি মনে মনে 'কষ্ট' পেয়েছেন। তিনি আশা করেন, রায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর ক্লাব সমর্থকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলবে, এবং সেটা হওয়া উচিত 'হৃদয় থেকে, আইনি পরিভাষায় ভরা বিবৃতি নয়'।
তিনি যোগ করেন: 'আমি একদমই হতাশ নই। ভুলে যাবেন না, বিষয়টা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সামনের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস কঠিন যাবে, কিন্তু ক্লাব সমর্থকদের জন্য, পুরো শহরের জন্য যা করেছে, তা এই মুহূর্তের ঝড়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
'ক্লাব যা করা জরুরি মনে করেছে তা-ই করেছে, এবং জোর দিয়ে বলছে তারা কোনো ভুল করেনি। ভিডিও ব্লগার বা পক্ষপাতদুষ্ট ধারাভাষ্যকারদের চেয়ে আমি মুবারককেই বেশি বিশ্বাস করি। তিনি মুখ খোলার আগ পর্যন্ত আমি ক্লাবের পাশে থাকব, তারপর দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।'
'খবরটা বের হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা হয়েছে, আর রাস্তায় হাঁটলেই লোকজন আমাকে কথা শোনাচ্ছে! মৌসুমের বাকি সময়টা অস্থির যাবে, কিন্তু তাতে কী? এটাই তো ফুটবল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন হলে আমরাও ঠিক এভাবেই তর্ক করতাম। আমার কিছু যায় আসে না।'